Medicine

ওমিপ্রাজল

নির্দেশিকা

ওমিপ্রাজল নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-

  • গ্যাস্ট্রিক এবং ডুওডেনাল আলসার।
  • গ্যাস্ট্রো-ইসফিজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GORD) বা বুক জ্বালাপোড়া।
  • অপারেশনের আগে এসিড অ্যাসপিরেশন প্রতিরোধে।
  • জলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোম (অতিরিক্ত এসিড উৎপাদন)।
  • ব্যাথানাশক ওষুধের (NSAID) কারণে হওয়া আলসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: সাধারণ আলসার বা গ্যাসের সমস্যায় ২০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার (৪-৮ সপ্তাহ)।
  • শিশুদের জন্য (১ মাস থেকে ১৮ বছর): ওজনের ওপর ভিত্তি করে ৫ মি.গ্রা. থেকে ২০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার।

প্রয়োগ: এটি সকালে খালি পেটে বা খাবারের ৩০ মিনিট আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে সেবন করা উচিত। ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট গুঁড়ো করে সেবন করা যাবে না।

ওমিপ্রাজল ইনজেকশন প্রাপ্তবয়স্কদের ডোজ:
  • Standard Dose: ৪০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার (একটানা ১-৭ দিন পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে)।
  • Zollinger-Ellison Syndrome: প্রাথমিকভাবে ৬০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার। রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ডোজ বাড়ানো হতে পারে।
  • Acid Aspiration Prophylaxis: অপারেশনের ১-১.৫ ঘণ্টা আগে ৪০ মি.গ্রা. একটি ইনজেকশন।
ওমিপ্রাজল ইনজেকশন শিশুদের ডোজ - BNFC অনুযায়ী)

শিশুদের ক্ষেত্রে ডোজ নির্ধারণ করা হয় তাদের দৈহিক ওজন (Body Weight) অনুযায়ী:

  • ওজন ৩-১০ কেজি: প্রতি কেজিতে ০.৫ মি.গ্রা. থেকে ১.৫ মি.গ্রা. দৈনিক একবার।
  • ওজন ১০-২০ কেজি: ১০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার।

ওজন ২০ কেজির উপরে: ২০ মি.গ্রা. দৈনিক একবার (প্রয়োজনে ৪০ মি.গ্রা. পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে)।

ওমিপ্রাজল ইনজেকশন প্রয়োগ পদ্ধতি :

ওমিপ্রাজল ইনজেকশন দুইভাবে দেওয়া যায়:

  • IV Injection (সরাসরি শিরায়): ৪০ মি.গ্রা. ভায়ালে সরবরাহকৃত ১০ মিলি সলভেন্ট (Solvent) মিশিয়ে কমপক্ষে ৫ মিনিট সময় নিয়ে ধীরগতিতে সরাসরি শিরায় ইনজেকশন দিতে হবে।
  • IV Infusion (স্যালাইনের মাধ্যমে): ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল ১০০ মিলি নরমাল স্যালাইন (0.9% NaCl) অথবা ৫% ডেক্সট্রোজ স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট ধরে প্রয়োগ করতে হবে।

ফার্মাকোলজি

কার্যপদ্ধতি: ওমিপ্রাজল পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের H+/K+-ATPase এনজাইম সিস্টেম (যাকে প্রোটন পাম্প বলা হয়) বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড উৎপাদন বন্ধ হয়। এটি এসিডের চূড়ান্ত নিঃসরণ পর্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে খাবারের পর বা স্বাভাবিক অবস্থায় এসিড উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন

ক্লোপিডোগ্রেল (Clopidogrel) জাতীয় রক্ত পাতলা করার ওষুধের সাথে এটি সেবন করা উচিত নয়। ডায়াজেপাম বা ওয়ারফারিন-এর সাথে ব্যবহারে সাবধানতা প্রয়োজন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপা। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে (3rd Trimester) এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এটি ভ্রূণের হার্টের ক্ষতি করতে পারে । স্তন্যদানকালে এটি বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণে নির্গত হয়, তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে ।

সতর্কতা

 ওমেপ্রাজোল ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা মাথায় রাখা জরুরি:

  1. মেডিকেল ইতিহাস: পেটের আলসার বা লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
  2. দীর্ঘ সময় ব্যবহার: দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে পেটের আলসার বাড়াতে পারে, তাই নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত।
  3. ইনজেকশন ব্যবহার: ইনজেকশন শুধুমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত।
  4. অ্যালার্জি: যদি অ্যালার্জি থাকে, তাহলে ব্যবহার করা যাবে না।
  5. গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান: গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।
  6. অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেজন্য চিকিৎসককে জানান।

ওমেপ্রাজোল শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দেশে ব্যবহার করা উচিত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI); অ্যান্টি-আলসারেন্ট।

সংরক্ষণ

শুষ্ক এবং ঠান্ডা জায়গায় ৩০°C এর নিচে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *